পুরভোটের দামামা। দোরগোড়ায় এসে প্রস্তুতি তুঙ্গে

🟠পুরভোটের প্রস্তুতিতে কমিশনের তৎপরতা, অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই একাধিক কাজ
আসন্ন পুরভোটকে সামনে রেখে প্রস্তুতি আরও জোরদার করল নির্বাচন কমিশন। ইভিএমের এফএলসি থেকে শুরু করে ভোটার তালিকা, ভোটকেন্দ্র, ভোটকর্মী নিয়োগ, আইনশৃঙ্খলা এবং নির্বাচনী ব্যয়—একাধিক বিষয়ে সময়সীমা বেঁধে দিয়ে জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের প্রস্তুতি শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
🟠কমিশনের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত ইভিএমের চেকিং বা ফার্স্ট লেভেল চেকিং (FLC) চলবে। ইভিএমের চলাচল, FLC এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাপনার জন্য EMMS অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করা হবে। 
📍চলবে ভোটার তালিকা ও ভোটকেন্দ্রে প্রস্তুতি। নির্বাচন কমিশনের ২০২৬ সালের ১ জুলাই পর্যন্ত হালনাগাদ করা ভোটার তালিকা অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে গ্রহণ করা হবে। এরপর অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে খসড়া ভোটার তালিকা এবং নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।
একইসঙ্গে ভোটকেন্দ্রগুলির প্রস্তুতিও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন এবং MRO-দের ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ন্যূনতম পরিকাঠামো বা AMF নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। ভোটকেন্দ্রের খসড়া ও চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের সময়সূচিও মূলত ভোটার তালিকার সময়সূচি অনুসরণ করবে।
📍প্রায় ৬৩০০ ভোটকেন্দ্রে ৩৭ হাজারের বেশি ভোটকর্মী। পুরভোটের জন্য প্রায় ৬৩০০টি ভোটকেন্দ্রের প্রয়োজন হতে পারে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ১+৩ অনুপাতে পোলিং কর্মী মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত কর্মীর ব্যবস্থাও রাখা হবে। সব মিলিয়ে ৩৭ হাজারেরও বেশি পোলিং কর্মীর প্রয়োজন হতে পারে বলে কমিশনের প্রস্তুতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার নিয়োগের পাশাপাশি তাঁদের তথ্য যাচাই ও ব্যবস্থাপনার জন্য EMMS পোর্টাল ব্যবহার করা হবে। মনোনয়ন গ্রহণের স্থান, দল এবং ভোটকর্মীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও চূড়ান্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
📍আইনশৃঙ্খলা ও ঝুঁকি মানচিত্রায়নে জোর
অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই সেক্টরভিত্তিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেক্টর অফিসারদের তাঁদের দায়িত্বাধীন ভোটকেন্দ্রগুলি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি এবং পরিকাঠামো খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। ভোটের আগে ঝুঁকি মানচিত্রায়ন এবং আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশিকা কমিশনের তরফে জারি করা হবে। ভোটপ্রক্রিয়া নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে অসামরিক প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
📍নির্বাচনী ব্যয় ও আদর্শ আচরণবিধি
আগের পুরভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব সংক্রান্ত তথ্য নির্ধারিত ফর্মে জমা দিতে বলা হয়েছে জেলা কর্তৃপক্ষকে।
কমিশনের প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দিন থেকেই আদর্শ আচরণবিধি বা MCC কার্যকর হবে। তবে তা শুধুমাত্র যে পুরসভা এলাকাগুলিতে ভোটগ্রহণ হবে, সেই এলাকাগুলিতেই প্রযোজ্য থাকবে। প্রতিদিনের রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট ফর্ম কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হবে।
সব মিলিয়ে, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা পুরসভা নির্বাচন আধিকারিক এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন পরিচালনার জন্য কমিশনের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় বজায় রাখার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
#purovote #electionnews #EVM #ECI #Order #october #administration

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন