‘ব্রহ্মা কুমারীদের ৯০ বছরের আধ্যাত্মিক ও সামাজিক সেবার যাত্রা পূর্তি উপলক্ষে কলকাতার ভবানীপুরে ব্রহ্মা কুমারীদের পূর্বাঞ্চলীয় সদর দফতরের উদ্যোগে শুরু হয়েছে চার দিনব্যাপী ‘ফেস্টিভ্যাল অব ইনার এমপাওয়ারমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ট্রান্সফরমেশন’। ২৪ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে এই উৎসব।
উৎসবের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার ‘অন্তরের শান্তি… শক্তিশালী পরিবার… বিকশিত ভারত’ শীর্ষক বিশেষ মহিলা উদ্যোগের সূচনা হয়। আমতলার গ্লোবাল এনলাইটেনমেন্ট রিট্রিট সেন্টার-এর শান্ত ও আধ্যাত্মিক পরিবেশে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল শ্রী আর. এন. রবি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্রহ্মা কুমারীদের বিশিষ্ট রাজযোগিনী বি. কে. বেদান্তী বেহন, ব্রহ্মা কুমারীস আফ্রিকার ডিরেক্টর এবং বি. কে. চন্দ্রিকা বেহন, মহাদেবনগর, আহমেদাবাদের সাব-জোন ইনচার্জ।
অন্তরের শান্তি ও পারিবারিক মূল্যবোধের উপর জোর রাজ্যপালের
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্যপাল শ্রী আর. এন. রবি বলেন, সমাজে দীর্ঘস্থায়ী ইতিবাচক পরিবর্তন শুধুমাত্র বাহ্যিক উন্নয়নের মাধ্যমে সম্ভব নয়। ব্যক্তির মধ্যে মূল্যবোধ, শান্তি ও ইতিবাচক চিন্তার বিকাশও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, পরিবার সমাজের মৌলিক একক। শক্তিশালী ও মূল্যবোধভিত্তিক পরিবারই একটি শক্তিশালী জাতির ভিত্তি তৈরি করে। সামাজিক পরিবর্তনে মহিলাদের ভূমিকা, নেতৃত্ব এবং সক্রিয় অংশগ্রহণের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
ব্রহ্মা কুমারীদের ৯০ বছরের আধ্যাত্মিক ও সামাজিক সেবার জন্য অভিনন্দন জানিয়ে রাজ্যপাল বলেন, মহিলাদের নেতৃত্বে পরিচালিত একটি আধ্যাত্মিক সংগঠন হিসেবে ব্রহ্মা কুমারীরা একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। সমসাময়িক বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আধ্যাত্মিকতাকে একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবেও এই সংগঠন তুলে ধরেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিভিন্ন স্তরের মহিলাদের কাছে ব্রহ্মা কুমারীদের কর্মসূচি পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগের প্রশংসা করেন রাজ্যপাল। মর্যাদা, সমতা, ইতিবাচক চিন্তা ও শান্তিপূর্ণ জীবনযাপনের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি গ্রামীণ ও তৃণমূল স্তরেও সংগঠনের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন তিনি।
অন্তরের শক্তির উপর জোর বি. কে. বেদান্তী বেহনের
ব্রহ্মা কুমারীদের সিনিয়র রাজযোগিনী বি. কে. বেদান্তী বেহন বলেন, প্রকৃত ক্ষমতায়ন শুধুমাত্র বাহ্যিক সাফল্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মনকে শান্ত, স্থির ও শক্তিশালী রাখার ক্ষমতাই প্রকৃত অন্তর্নিহিত শক্তি।
মহিলাদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একজন মহিলা যখন নিজের মধ্যে শান্তি ও শক্তি অর্জন করেন, তখন তার ইতিবাচক প্রভাব পরিবার, কর্মক্ষেত্র এবং বৃহত্তর সমাজেও ছড়িয়ে পড়ে।
পরিবারে শান্তি ও ইতিবাচক যোগাযোগের বার্তা
বি. কে. চন্দ্রিকা বেহন পরিবারে ভালোবাসা, সম্মান, পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং ইতিবাচক যোগাযোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। বাহ্যিক পরিস্থিতি পরিবর্তনের আগে নিজের চিন্তা ও আবেগকে ইতিবাচক দিশা দেওয়া প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মানসিক স্থিরতা, আত্মসচেতনতা ও অন্তরের শান্তি গড়ে তুলতে রাজযোগ মেডিটেশন কার্যকর মাধ্যম হতে পারে বলে তিনি জানান। নিয়মিত ধ্যানের অভ্যাস গড়ে তোলার জন্য অংশগ্রহণকারীদের উৎসাহিত করেন তিনি।
বিভিন্ন ক্ষেত্রের কৃতী মহিলাদের সম্মাননা
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা মহিলাদের সম্মাননা প্রদান। তাঁদের নেতৃত্ব, সেবা, সাফল্য এবং সমাজে ইতিবাচক প্রভাবের জন্য সম্মানিত করা হয়।
সম্মানিত মহিলাদের মধ্যে ছিলেন—
- শ্রীমতী সুমন সুদ — ডিরেক্টর, বি. ডি. মেমোরিয়াল স্কুল, কলকাতা
- পদ্মশ্রী বুলা চৌধুরী — কিংবদন্তি ভারতীয় সাঁতারু
- সৌম্য বর্মা ও মহিমা বর্মা — কো-ডিরেক্টর, ক্যালকাটা ফাউন্ডেশন
- শ্যামলু দুদেজা ও মালিকা দুদেজা — কান্থা ফাউন্ডেশন
- শীতল দুগার — চেয়ারপার্সন, JITO Apex Ladies Wing
- ভারতী জৈনানি — মিডিয়া সাংবাদিক, কলকাতা
রাজযোগ মেডিটেশনের মাধ্যমে অন্তরের শান্তির অভিজ্ঞতা
অনুষ্ঠানে গাইডেড রাজযোগ মেডিটেশন-এরও আয়োজন করা হয়। দৈনন্দিন ব্যস্ততা থেকে কিছুটা দূরে সরে নীরবতা, শান্তি ও অন্তর্নিহিত শক্তির অনুভূতি লাভের সুযোগ পান অংশগ্রহণকারীরা।
অনুষ্ঠানের মূল বার্তা ছিল—
“অন্তরের শান্তি থেকে গড়ে ওঠে শক্তিশালী পরিবার, আর শক্তিশালী পরিবারই বিকশিত ভারতের ভিত্তি।”
আগামী দিনে একাধিক বিশেষ কর্মসূচি
২৪ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর আয়োজিত এই চার দিনের উৎসবে আগামী দিনগুলিতে আরও একাধিক সামাজিক ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।
এর মধ্যে রয়েছে যুবসমাজের জন্য বিশেষ কর্মসূচি ‘উঠো জগত কে ওয়াস্তে’, যার লক্ষ্য সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের প্রসার। পাশাপাশি প্রবীণ নাগরিকদের জন্য সামাজিক প্রকল্প ‘সঙ্গম’-এরও সূচনা করা হবে। #YoungPeople #social #brahmakumaris #awareness #culturalawareness