উত্তরকন্যায় উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রীর দুর্নীতি রুখতে কড়া পদক্ষেপ, ‘ব্ল্যাকলিস্টেড’ হবে নিম্নমানের কাজ করা ঠিকাদাররা। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রীর দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর প্রথমবার উত্তরবঙ্গের শাখা সচিবালয় উত্তরকন্যায় দপ্তরের আধিকারিকদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসলেন মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক। শনিবারের এই বৈঠকে দপ্তরের কাজকর্মের খতিয়ান নেওয়ার পাশাপাশি আগামী দিনের অ্যাকশন প্ল্যান বা কর্মপরিকল্পনা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে পূর্বতন রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ করে মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক জানান, "এতদিন উত্তরবঙ্গের মানুষ শুধু বঞ্চনা আর লাঞ্ছনাই পেয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, বিগত ১৫ বছর ধরে উত্তরবঙ্গকে সুইজারল্যান্ড বা টুরিস্ট হাব বানানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও, জনসংখ্যার অনুপাত ও ভৌগোলিক বিস্তৃতির তুলনায় এই দপ্তরের বাজেট বরাদ্দের পরিমাণ ছিল অত্যন্ত কম।" তবে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বর্তমান সরকার উত্তরবঙ্গের উন্নয়নে কোনো খামতি রাখবে না বলে আশ্বস্ত করেছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বার্তা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, উত্তরবঙ্গের সার্বিক উন্নয়নের জন্য বাজেটে যতখানি বরাদ্দের প্রয়োজন, ঠিক ততটাই বরাদ্দ করা হবে। সাধারণ মানুষের চাহিদা ও দীর্ঘদিনের দাবিকে মান্যতা দিয়ে এবার প্রকৃত উন্নয়ন সাধিত হবে এবং অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে ডবল ইঞ্জিনের সরকার এই কাজ রূপায়ণ করবে। পূর্বতন সরকারের আমলে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে নিশীথ প্রামাণিক কড়া হুঁশিয়ারি দেন। তিনি স্পষ্ট জানান, বিগত দিনে যে সমস্ত কন্ট্রাক্টর বা ঠিকাদার সংস্থা নিম্নমানের কাজ করেছে বা শুধু খাতায়-কলমে কাজ দেখিয়ে প্রকৃত কাজ করেনি, তাদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে ‘ব্ল্যাকলিস্টেড’ (কালো তালিকাভুক্ত) করা হবে। দপ্তরে কোনো ধরনের দালালচক্র বা মিডলম্যানদের ভিড় বরদাস্ত করা হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, "কাজের জায়গায় কাজ হবে, ডেভলপমেন্টের জায়গায় ডেভলপমেন্ট হবে।" আধিকারিক, ইঞ্জিনিয়ার থেকে শুরু করে দপ্তরের প্রত্যেক কর্মচারীকে নিজেদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে আরও দক্ষ অফিসার নিয়োগের বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলা হবে বলেও তিনি জানান। উত্তরবঙ্গের আটটি জেলাতেই যাতে সমানভাবে উন্নয়ন পৌঁছায়, বর্তমান সরকার সেই লক্ষ্যেই কাজ করবে। গ্রামীণ উন্নয়নের পাশাপাশি নারী উন্নয়ন ও নারীর ক্ষমতায়নের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে এই দপ্তরের মাধ্যমে। একই সঙ্গে উত্তরবঙ্গের কৃষিপেশাকে চাঙ্গা করতে এগ্রো-বেসড ক্লাস্টার তৈরি করে সম্পদ সৃষ্টি এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে বলে মন্ত্রী জানান। নির্বাচনের আগে দেওয়া সংকল্প পত্রের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে (Priority basis) প্রত্যেকটি জেলা ধরে সমস্যার সমাধান করা হবে এবং উত্তরবঙ্গের মানুষের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
মন্ত্রী জানান, দপ্তরের কাজের গতি বাড়াতে এবং কোনো প্রকল্প যাতে মাঝপথে আটকে না থাকে, তার জন্য আধিকারিকদের নিয়মিত ফিল্ড ভিজিট বা কাজের জায়গা পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, "শুধু টেবিল-চেয়ারে বসে কাজ করলে চলবে না। আধিকারিক ও ইঞ্জিনিয়ারদের মাঠে নেমে কাজের গুণগত মান পরীক্ষা করতে হবে।" প্রতিটি কাজের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হচ্ছে এবং সেই সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা বাধ্যতামূলক।
উত্তরবঙ্গের ভৌগোলিক বৈচিত্র্যের কথা মাথায় রেখে পাহাড় ও সমতলের জন্য আলাদা এবং বিশেষ পরিকল্পনার কথা জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, দার্জিলিং, কালিম্পং, কার্শিয়াং ও মিরিকের মতো পাহাড়ি অঞ্চলের সমস্যা ও চাহিদা সমতলের চেয়ে আলাদা। তাই পাহাড়ের হেরিটেজ সংরক্ষণ, পর্যটন পরিকাঠামোর আধুনিকীকরণ এবং ধসপ্রবণ এলাকার রাস্তাঘাটের স্থায়ী সমাধানের জন্য বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। অন্যদিকে, সমতলের জেলাগুলির যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং জলনিকাশি ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করা হচ্ছে।
#uttorkonnya
#hills
#devlopment
#westbengal