🚩বিজেপি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সদর দফতর, ৬ মুরলীধর সেন লেন, কলকাতা
তারিখ: ১৬ মে, ২০২৬
♦️বিষয় - ডায়মন্ড হারবার প্রশাসনিক বৈঠকে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারীর একাধিক ঐতিহাসিক ঘোষণা — আইন-শৃঙ্খলা, পুলিশ সংস্কার ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে কড়া বার্তা
♦️আজ দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবারে অনুষ্ঠিত রাজ্য সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক ও আইন-শৃঙ্খলা পর্যালোচনা বৈঠকে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারী একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, রাজ্য পুলিশের মহাপরিচালক এবং অন্যান্য শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিকরা। রাজ্যের সমস্ত পুলিশ কমিশনারেট, জেলা পুলিশ ইউনিট এবং থানার আধিকারিকরা ভার্চুয়াল মাধ্যমে এই বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।
♦️বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, পশ্চিমবঙ্গে আর “শাসকের শাসন” চলবে না, প্রতিষ্ঠিত হবে শুধুমাত্র “আইনের শাসন”। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর অধীনে আইনগত প্রক্রিয়ার কঠোর প্রয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
♦️মুখ্যমন্ত্রী আরও ঘোষণা করেন যে, রাজনৈতিক হিংসায় ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষ, অতীতে অন্যায়ভাবে নিপীড়িত ব্যক্তি এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকারদের অভিযোগ পুনরায় নথিভুক্ত করার সুযোগ দেওয়া হবে। প্রশাসনকে প্রতিটি অভিযোগ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
♦️সরকারি প্রকল্পে কাটমানি, ঘুষ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার নীতি ঘোষণা করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক প্রমাণ পাওয়া গেলে সরাসরি আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে মিথ্যা অভিযোগ দায়েরকারীদের বিরুদ্ধেও BNS অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
♦️পুলিশ প্রশাসনে বড় সংস্কারের অংশ হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী বর্তমান “পুলিশ ওয়েলফেয়ার বোর্ড” অবিলম্বে ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা করেন। তাঁর অভিযোগ, এই বোর্ড দীর্ঘদিন ধরে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক স্বার্থগোষ্ঠীর হাতিয়ার হয়ে উঠেছিল। আগামী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন ও স্বচ্ছ কল্যাণমূলক কাঠামো গঠনের জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি তৈরির ঘোষণাও করেন তিনি।
♦️মহিলা পুলিশ কর্মীদের বদলি নীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, দূরবর্তী জেলার পরিবর্তে নিকটবর্তী জেলায় পোস্টিংয়ের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে। দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত মহিলা কনস্টেবলদের হোম-ডিস্ট্রিক্ট পোস্টিং সম্পর্কেও ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
♦️তোলাবাজি, সিন্ডিকেট রাজ এবং বেআইনি টোল আদায়ের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন যে, আজ থেকে বৈধ রসিদ ছাড়া কোনও অর্থ আদায় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সাধারণ মানুষকে সরাসরি থানায় অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে এবং পুলিশকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
♦️শব্দদূষণ, বেআইনি খনন, অবৈধ উত্তোলন কার্যকলাপ এবং বেআইনি টোল প্লাজার বিরুদ্ধেও শূন্য সহনশীলতার নীতি ঘোষণা করা হয়েছে।
♦️মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানান, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর বা পুলিশ কর্মীদের উপর হামলার ঘটনায় শুধু গ্রেফতার নয়, ক্ষতিগ্রস্ত সরকারি সম্পত্তির আর্থিক ক্ষতিপূরণও অভিযুক্তদের কাছ থেকে আদায় করা হবে।
♦️প্রশাসনিক ব্যবস্থার মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রশাসনিক বৈঠকে সরকারি আধিকারিকদের অপমান বা রাজনৈতিক বক্তৃতার সংস্কৃতি আর চলবে না। প্রশাসনিক শৃঙ্খলা এবং আধিকারিকদের পেশাগত মর্যাদাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
♦️এছাড়াও সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য সমস্ত সরকারি সার্কুলার বাংলা, হিন্দি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নেপালি ভাষায় অনুবাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
♦️মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের মানুষকে আশ্বস্ত করে বলেন, এই সরকারের প্রধান লক্ষ্য প্রশাসন থেকে ভয়ের পরিবেশ দূর করে আইনের শাসন, স্বচ্ছতা এবং জনসাধারণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।
মিডিয়া বিভাগ, বিজেপি পশ্চিমবঙ্গ