আমার সকাল: সব যুদ্ধ জেতার জন্য লড়া হয় না : রামন ম্যাগসেস

নিজস্ব প্রতিনিধি— ‘‘সব যুদ্ধ জেতার জন্য লড়া হয় না’’, রামন ম্যাগসেসে পুরস্কার পেয়ে বললেন রভীশ কুমার। NDTV-র নির্বাহী সম্পাদক রভীশ কুমার (Ravish Kumar) ফিলিপিন্সের রাজধানী ম্যানিলায় রামন ম্যাগসেসে পুরস্কার (Ramon Magsaysay Award) পেলেন। অনুষ্ঠানে আয়োজকদের তরফে রভীশ কুমারের জীবন ও সাংবাদিকতার কেরিয়ার সম্পর্কে বলা হয়। পুরস্কার গ্রহণ করার পর উপস্থিত দর্শকদের উদ্দেশে রভীশ বলেন, ‘‘সব যুদ্ধ জেতার জন্য লড়া হয় না। কোনও কোনও যুদ্ধ কেবল এই জন্য লড়া হয়, যাতে দুনিয়াকে বলা সম্ভব হয় যে, কেউ আছে যে লড়ছে।” তিনি এরপর বলেন, ‘‘যেদিন রামন ম্যাগসেসে পুরস্কারের ঘোষণা হয়, সেদিন থেকে আমার চারপাশের পৃথিবীটা বদলে গিয়েছে। যেদিন থেকে ম্যানিলায় এসেছি, আপনাদের আতিথেয়তা আমার মন জিতে নিয়েছে। আপনাদের আতিথেয়তা আপনাদের পুরস্কারের চেয়েও বড়। আপনারা প্রথমে ঘরে ডাকলেন, অতিথি থেকে পরিবারের একজন করে তুললেন। আর তারপর আজ পুরস্কারের জন্য  সকলে জমায়েত হয়েছেন।”

Image result for ramon magsaysay award 2019

তিনি আরও বলেন, ‘‘সাধারণত পুরস্কারের দিনই পুরস্কার প্রাপক ও পুরস্কারদাতা মিলিত হন। আর তারপর দু’জন আর কখনই মিলিত হন না। আপনাদের এখানে তেমন নয়। আপনারা এটা অনুভব করিয়েছেন যে, নিশ্চয়ই কোনও ভাল করেছি, তাই আপনারা নির্বাচিত করেছেন। নাহলে, আমরা সব সামান্য লোক, আপনাদের ভালবাসা আমায় আগের থেকে বেশি দায়িত্ববান ও বিনয়ী করে তুলেছে।”রভীশ কুমার বলেন, ‘‘পৃথিবী অসাম্যকে স্বাস্থ্য ও আর্থিক মাপকাঠিতে মাপে। কিন্তু সময় এসে গিয়েছে, যখন জ্ঞানের অসাম্যকেও মাপতে হবে। আজ যখন ভাল শিক্ষা কেবল শহরাঞ্চলেই সীমাবদ্ধ, তখন আমরা কল্পনাও করতে পারি না যে জ্ঞান বৈষম্যের কী বিপজ্জনক পরিণতি শহর ও গ্রামে ঘটছে। স্পষ্টতই, তাদের জন্য হোয়াটসঅ্যাপ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রপাগন্ডাই জ্ঞানের উত্স। যুবকদের উন্নততর শিক্ষা পেতে দেওয়া হয়নি। সুতরাং আমরা তাদের পুরোপুরি দোষ দিতে পারি না। এই প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমের সংকটকে বোঝা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সংবাদমাধ্যমও যদি হোয়াটসঅ্যাপ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ শুরু করে তবে সমাজে তার প্রভাব কতটা খারাপ হবে! এটা ভাল ব্যাপার যে, ভারতের লোকেরা বুঝতে শুরু করেছে।”

প্লাস্টিকের বিকল্প কি হতে পারে তা তিনদিনের মধ্যে পানীয় সংস্থাকে জানানোর নির্দেশ কেন্দ্রের

তিনি আরও বলেন, ‘‘সেই কারণেই আমি যত অভিনন্দন পেয়েছি, তাতে অভিনন্দনরে বার্তা ছাড়াও সংবাদমাধ্যমের ‘আপত্তিজনক’ হয়ে ওঠা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। তাই আমি মিজের জন্য খুশি। কিন্তু যে পেশা থেকে আমি এসেছি তার অবস্থা আমাকে বিষণ্ণও করে তোলে।” তিনি বলেন, ‘‘ভারতের সংবাদমাধ্যম সঙ্কটে রয়েছে। এবং এই সঙ্কট কাঠামোগত, হঠাৎ করে এটি হয়নি। এটি এলোমেলোও নয়। সাংবাদিক হওয়া এখন ব্যক্তিগত প্রচেষ্টা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেননা সংবাদ সংস্থা এবং তাদের কর্পোরেট কর্মকর্তারা এমন সাংবাদিকদের এমন চাকরি ছেড়ে দিতে বাধ্য করছেন যাঁরা আপস করতে রাজি নন।। তবুও এটি দেখে উৎসাহ হয় যে, যে আরও অনেকে আছেন যাঁরা জীবন ও চাকরির কথা না ভেবে সাংবাদিকতা করছেন। মুক্ত সাংবাদিকতা করেই জীবনধারণ করছেন যে মহিলা সাংবাদিকরা তাঁরাও নিজেরা আওয়াজ তুলছেন। যখন কাশ্মীরে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হল, পুরো সংবাদমাধ্যম সরকারের সঙ্গেই চলছিল। কিন্তু এমন অনেকে ছিলেন যাঁরা সত্যিটা দেখানোর সাহস করেছিলেন এবং ট্রোলের সেনার মোকাবিলা করেছিলেন। কিন্তু বড় প্রশ্ন হল, সংগঠন ও তার নেতাদের কবে প্রশ্ন করা যাবে?” রভীশ কুমার বলেন, ‘‘আমরা কি খবরের রিপোর্টিংয়ের পবিত্রতাকে বজায় রাখতে পারব? আমার বিশ্বাস রয়েছে দর্শক রিপোর্টিংয়ে সত্যি, আলাদা আলাদা প্ল্যাটফর্ম ও কণ্ঠস্বরের বিভিন্নতাকে গুরুত্ব দেবেন। গণতন্ত্র ততদিনই বিকশিত হতে পারে যতদিন খবরে সত্যতা থাকবে। আমি রামন ম্যাগসেসে পুরস্কারকে গ্রহণ করছি এই জন্য যে, এই পুরস্কার আমি নয়, হিন্দির সমস্ত সাংবাদিক ও দর্শকরা পাচ্ছেন। যাদের এলাকায় জ্ঞানের বৈষম্য বেশি প্রকট, এরপরও তাঁদের ভিতর শুভ চিন্তা ও শিক্ষিরা খিদে অনেক গভীর। অনেক তরুণ সাংবাদিক এটিকে গুরুত্ব সহকারে দেখছেন। তাঁরা সাংবাদিকতার সেই অর্থকে বদলে দেবেন, যা আজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হতেই পারে, তাঁরা লড়েও হেরে গেলেন। কিন্তু লড়াই ছাড়া অন্য পথ নেই। সব সময় কেবল জেতার জন্যই নয়, এটা বলার জন্যও লড়াই করা হয় যে, কেউ ছিল যে ময়দানে অবতীর্ণ হয়েছিল।”

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন